লিওনেল মেসির এমন কিছু রেকর্ড রয়েছে, যেগুলো কখনো ভাঙবে কি না- সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। নামটা তাই ফুটবল ইতিহাসে আলাদা জায়গায় থাকবে মহাতারকার। তবে এবার তাঁর ঐতিহাসিক এক রেকর্ড ভাঙার হাতছানি দিচ্ছে আর্লিং ব্রড হলান্ডকে।
২০১১–১২ মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে একাই ৭৩ গোল এবং আর্জেন্টিনার হয়ে আরও ৯ গোল করেছিলেন মেসি। মোট ৮২ গোল করে এক মৌসুমে সর্বাধিক গোলের অনন্য রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। সেই রেকর্ড ১৪ বছর ধরে অক্ষুন্ণ। এবার সেটি ভাঙার পথে এগোচ্ছেন হালন্ড।
ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার এই মৌসুমে গোল করে চলেছেন অবিশ্বাস্য ধারায়। পুরোনো সেই দিনে মেসিকে যিনি পথ দেখিয়েছিলেন পেপ গার্দিওলা- এবার তাঁর কোচিংয়েই হলান্ড এগোচ্ছেন আরেকটি ইতিহাস গড়ার দিকে।
২০২৫–২৬ মৌসুম শুরুর পর এখন পর্যন্ত ২৮ গোল করেছেন হলান্ড। এর মধ্যে ম্যানচেস্টার সিটি হয়ে ১৯ গোল, নরওয়ের হয়ে ৯ গোল। সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগে ১৪, চ্যাম্পিয়নস লিগে ৫ গোল। নরওয়ের জার্সিতে বিশ্বকাপ বাছাইযে ৮ ও প্রীতি ম্যাচে ১ গোল করেছেন হলান্ড।
হলান্ডের ১৮ ম্যাচে ২৮ গোল— গড়ে প্রতি ম্যাচে ১.৫৫ গোল। অর্থাৎ মেসির ঐতিহাসিক মৌসুমের গড়ে প্রতি ম্যাচে ১.১৯ গোলের চেয়েও এগিয়ে আছেন হলান্ড। এই গতি বজায় থাকলে মৌসুম শেষে হলান্ডের গোলসংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে ১০৬-এ পৌঁছাতে পারে, যা আধুনিক ফুটবলে অকল্পনীয়।
লিগে মেসির রেকর্ড ভাঙা কি সম্ভব? তিনি লা লিগায় করেছিলেন ৫০ গোল, যা এখনও ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। হলান্ড প্রিমিয়ার লিগে এখন পর্যন্ত গড়ে ১.২৭ গোল প্রতি ম্যাচে খেলছেন, এই ধারায় গেলে লিগে তাঁর হতে পারে ৪৮ গোল— মেসির রেকর্ড থেকে মাত্র দুই গোল কম।
তবে সিটির সামনে আরও ম্যাচ রয়েছে—এফএ কাপ, লিগ কাপ, আর নতুন ফরম্যাটের চ্যাম্পিয়নস লিগে সম্ভাব্য ১৭টি ম্যাচ। ফিট থাকলে হলান্ডের সামনে ম্যাচের সংখ্যা হতে পারে ৬৫ থেকে ৭৪— মেসির রেকর্ড মৌসুমের (৬৯) চেয়েও বেশি।
বাকি রইল সবচেয়ে বড় শর্ত—ফিট থাকা। দীর্ঘ মৌসুমে শারীরিক ও মানসিক চাপ সামলে এই গতি ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু মাঠে হলান্ড এখন যেন থামানোই যায় না—আত্মবিশ্বাসী, শক্তিশালী, নিখুঁত ফিনিশার।
মেসির রেকর্ড ভাঙা কঠিন। তবে অসম্ভব নয়। হলান্ডের সামনে এখন ইতিহাসের দরজা—শুধু ফিট থেকে গতি বজায় রাখতে হবে।