২২ ফাল্গুন, ১৪৩২

০৬ মার্চ, ২০২৬

১৩ নভেম্বরের তথাকথিত কর্মসূচি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই: ডিএমপি কমিশনার

শতাব্দী প্রতিবেদক প্রকাশিত: নভেম্বর ১১, ২০২৫, ৬:১২ অপরাহ্ন
১৩ নভেম্বরের তথাকথিত কর্মসূচি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই: ডিএমপি কমিশনার

ঢাকা মহানগরবাসীকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়ে নাশকতা মোকাবেলায় জনগনের সহায়তা চেয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। নাশকতা যারা করে তাদের প্রতিহত করবে ঢাকাবাসী বলেও উল্লেখ করেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার।

১৩ তারিখে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মসুচি নিয়ে তিনি বলেন, এটা নিয়ে শঙ্কিত হবার কিছু নেই। একটা দুইটা ককটেল মোটরবাইক ব্যবহার করে জনমনে ভীত সৃষ্টি করার অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে আমরা শীঘ্রই ব্যবস্থা নিচ্ছি।

তিনি বলেন, অপরিচিত কাউকে আশ্রয় না দেওয়া এবং যানবাহন বা মোটরসাইকেল ভাড়া দেওয়ার আগে অবশ্যই যাচাই-বাছাই করা জরুরি। ভাড়া দেওয়ার আগে খেয়াল রাখবেন তা কোনো দুর্বৃত্তের হাতে চলে যাচ্ছে কি না।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘ঢাকা মহানগরীর চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি’ বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, অন্যের মোটরসাইকেল বা যানবাহন ভাড়া নিয়ে কেউ যেন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করতে না পারে, সে জন্য ভাড়া দেওয়ার আগে ভালোভাবে যাচাই করে নেবেন। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তিকে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে জানাবেন।

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, কিছুদিন ধরেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ছড়িয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টায় লিপ্ত। সে প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সম্প্রতি তাদের নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্নস্থান থেকে রাজধানীতে জড়ো হয়ে ঝটিকা মিছিলের আয়োজন করছে। ককটেল বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন যানবাহনে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তাদের এই হীন অপতৎপরতা রোধে সচেষ্ট রয়েছে এবং ১ অক্টোবর থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত এসব অপকর্মের সাথে জড়িত মোট ৫৫২ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের অধিকাংশই ঢাকার বাইরে থেকে আসা এবং বিভিন্ন ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে নাশকতারীদের সনাক্ত করারও কাজ চলছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনার নগরবাসীকে কোন আগন্তুককে আশ্রয় দেওয়ার পূর্বে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া এবং হোটেল, গেস্ট হাউজে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে অতিথি ওঠানোর অনুরোধ করেন। এছাড়া ব্যক্তিগত ও যেকোন ধরনের বাণিজ্যিক যানবাহন যেন কোন অবস্থাতে অরক্ষিত না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ করেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নগরবাসীর ভূমিকার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ছাত্র-জনতার সফল অভ্যুত্থানে আমরা স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছি। নাশকতার পরিকল্পনাকারীদের একইভাবে সকলে মিলে প্রতিহত করতে হবে। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, সম্মানিত নগরবাসীই আমাদের শক্তি। তাদের সাথে করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ যেকোন ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে সক্ষম। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যগণ সক্রিয় রয়েছেন অতএব নাশকতাকারীদের বিচ্ছিন্ন কর্মকাণ্ডে অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই। 

প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মোঃ সরওয়ার, (অতিরিক্ত আইজি), অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলামসহ ডিএমপির উর্ধ্বতন কর্মকতাগণ উপস্থিত ছিলেন।

নয়াশতাব্দী/এসআর