সিরিয়াকে সফল করতে যা কিছু করা সম্ভব, তার সবই করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ প্রতিশ্রতি দেন। এটি সিরিয়ার কোনো প্রেসিডেন্টের প্রথম ওয়াশিংটন সফর।
সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল কায়েদার সাবেক কমান্ডার আহমেদ আল-শারা। কিছুদিন আগেও কালো তালিকভুক্ত ‘বিদেশি সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছিল ওয়াশিংটন। এক সময় শারার মাথার ওপর এক কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেই শারা ওয়াশিংটনে যাওয়ার পর তেমন কোনো উষ্ণ অভ্যর্থনা পাননি। হোয়াইট হাউজের ওয়েস্ট উইংয়ের সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ না করে শারা একটি পাশ্ববর্তী দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প শারাকে একজন 'শক্তিশালী নেতা' বলে বর্ণনা করে তার প্রশংসা করেন এবং শারার ওপর তার বিশ্বাস আছে বলে জানান। এ সময় ট্রাম্প বলেন, 'সিরিয়াকে সফল বানাতে আমাদের পক্ষে যা কিছু করা সম্ভব আমরা করবো।'
ট্রাম্প শারার বিতর্কিত অতীতের বিষয়ে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আমাদের সবার রূঢ় অতীত ছিল।’ তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শারা জানান, আল কায়েদার সঙ্গে তার সম্পর্ক অতীতের বিষয় আর ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তা নিয়ে কথা হয়নি।সিরিয়াকে এখন ওয়াশিংটনের হুমকি হিসেবে নয়, এক ভূরাজনৈতিক মিত্র হিসেবে দেখা হয় বলে দাবি করেন শারা।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আহমেদ আল-শারার সঙ্গে বৈঠকের পরও সিরিয়ার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখার মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়। এক ঘোষণায় মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিরিয়ার ওপর আরোপ করা তথাকথিত ‘সিজার’ নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের মেয়াদ আরও ১৮০ দিন বৃদ্ধি করেছে তারা কিন্তু এটি পুরোপুরি তুলে নেওয়ার এক্তিয়ার শুধু মার্কিন কংগ্রেসের।
নয়াশতাব্দী/এসআর