ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লির লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের পরই সেখানে হাই-অ্যালার্ট জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিস্ফোরণের পর শহড়জুড়ে সোমবার রাত থেকেই চলছে নাকা তল্লাশি। নাকা তল্লাশি হলো একটি নির্দিষ্ট স্থানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত তল্লাশি অভিযান, যেখানে সন্দেহজনক কার্যকলাপ বা অপরাধমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সুরক্ষার জন্য যানবাহন এবং ব্যক্তিদের থামানো হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো অবৈধ অস্ত্র, মাদক, বা অন্যান্য অপরাধমূলক সামগ্রী খুঁজে বের করা এবং আইন প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই নাকা তল্লাশি চালানো হয়।
গত সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের গেটের সামনেই বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিক ভাবে, এটিকে সন্ত্রাসবাদী হামলা বলেই মনে করছে ভারতীয় পুলিশ। লালকেল্লার অদূরেই চাঁদনি চক এলাকায় মেট্রো স্টেশনের সামনে ওই বিস্ফোরণে এখনও পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।
শুধু দিল্লি নয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাসহ দার্জিলিং ও শিলিগুড়ি শহরেও হাই এলার্ট জারি করা হয়েছে। সেখানেও চলছে নাকা তল্লাশি। এসব শহরের থানাগুলোতে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।
টাইমস অফ ইন্ডিয়া, আনন্দবাজারসহ বেশ কয়েকটি ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসাবে গত সোমবার রাত থেকেই শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ‘নাকা চেকিং’ শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন হোটেল এবং লজগুলিতে চলছে অভিযান। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে শুরু হয়েছে বিশেষ নজরদারি।
সোমবার পৃথক সতর্কবার্তা জারি করেছে কলকাতা মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ। হাই-অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তরের জেলাগুলোতেও। বিশেষ করে শিলিগুড়ির করিডোর চিকেনস নেক-এ নিরাপত্তা সোমবার রাতেই জোরদার করে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবারও রেল স্টেশনে, বাস স্টপগুলিতে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ।
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়, ‘চিকেনস নেক’ হওয়ার কারণে বরাবরই দুষ্কৃতীদের সফট টার্গেট হিসাবে পরিচিত শিলিগুড়ি। দার্জিলিং জেলার কাছে রয়েছে নেপাল, বাংলাদেশ, ভুটানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলির সীমান্ত ৷ পাশাপাশি রয়েছে বিহার, সিকিম ও আসামের সীমানা । তাই নিরাপত্তায় কোনও ত্রুটি থাকলে খুব সহজেই দুষ্কৃতীরা শিলিগুড়ি কিংবা উত্তরবঙ্গে প্রবেশ করে অন্যান্য রাজ্য বা দেশে পালিয়ে গিয়ে গা ঢাকা দিতে পারবে । সেই ঝুঁকি এড়াতেই প্রতিটি সীমান্তে বাড়ানো হয়েছে কড়া নজরদারি।
দেশে যুদ্ধ পরিস্থিতি হোক কিংবা জঙ্গি হামলার সম্ভাবনায় ‘চিকেনস নেক'কে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার চাদরে উত্তরবঙ্গকে মুড়ে ফেলে ভারতের আইনশৃ্ঙখলা রক্ষাকারী বাহিনী। গুরুত্বপূর্ণ এই চিকেনস নেক উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র পথ। একে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার বলা হয় ।
উত্তরবঙ্গের আইজি রাজেশ কুমার যাদবের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। প্রত্যেক থানাকে সতর্ক করা হয়েছে । সীমান্তের নিরাপত্তার জন্য ভারতয়ি সীমান্তরক্ষী বাহিনী(বিএসএফ) ও সশস্ত্র সীমান্ত বাহিনীকে (এসএসবি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক জেলায় নাকা তল্লাশি শুরু করা হয়েছে। "এই বিষয়ে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি রাকেশ সিং বলেন, "প্রত্যেক হোটেলে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আবাসিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রতিটি বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশনেও নজরদারি শুরু হয়েছে। বিমানবন্দরেও যাতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয় তার জন্য সিআইএসএফ আধিকারিকদের জানানো হয়েছে। তবে আতঙ্কের কিছু নেই।"
দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে কোচবিহার পর্যন্ত উত্তরের ৫ জেলায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারির জন্য চারটি সেক্টরে মোট ১৮টি বিএসএফ ব্যাটেলিয়ন মোতায়েন করা হয়েছে । শিলিগুড়িতে প্রবেশের ১৩টি প্রবেশ ও বহির্গমন পয়েন্টে নাকা তল্লাশি শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ। নামানো হয়েছে অ্যান্টি সাবোটাজ টিম । বাস টার্মিনাসগুলিতে চলছে তল্লাশি।
নয়াশতাব্দী/এনএ