২২ ফাল্গুন, ১৪৩২

০৬ মার্চ, ২০২৬

দুই হাজারের অধিক শিক্ষার্থীকে নিয়ে জবি শিবিরের ‘রান উইথ শিবির’ কর্মসূচি

জবি, প্রতিনিধি প্রকাশিত: নভেম্বর ১১, ২০২৫, ১১:২৫ পূর্বাহ্ন
দুই হাজারের অধিক শিক্ষার্থীকে নিয়ে জবি শিবিরের ‘রান উইথ শিবির’ কর্মসূচি

‘চলো একসাথে হাঁটি, একসাথে দেশ গড়ি’—এই স্লোগানকে ধারণ করে দুই হাজারের অধিক শিক্ষার্থীকে নিয়ে ‘রান উইথ শিবির’ কর্মসূচির আয়োজন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।

মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে কর্মসূচিটি শুরু হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক হয়ে কোর্ট এলাকা, রায়সাহেববাজার মোড়, ধোলাইখাল হয়ে ধূপখোলা মাঠে গিয়ে এটি শেষ হয়। শাখা সূত্রে জানা যায়, এ কর্মসূচিতে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করেন।

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সিফাত সাকিব বলেন, “সকালে উঠেই ভাবছিলাম যাব কি যাব না। পরে রুমমেটের সঙ্গে বের হলাম। ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখি সব পরিচিত মুখ। অসাধারণ! অংশ না নিলে আফসোস হতো! ধন্যবাদ ছাত্রশিবির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে। অন্যান্য সংগঠনগুলোর দিকেও তাকিয়ে আছি—এমন প্রোগ্রাম চাই! আমাদের জগন্নাথে বিনোদনের আলাদা ব্যবস্থা নেই। আপনারা এমন উদ্যোগ নিলে আমরা উপভোগ করতে পারি।

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক মোহতাসিম বিল্লাহ শাহিদী বলেন, শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চার জন্য প্রথমেই প্রয়োজন শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শরীরচর্চার জন্য পর্যাপ্ত কোনো ব্যবস্থা নেই। আজকে জবি শিবিরের ‘রান উইথ শিবির’ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা যেভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে, তাতে স্পষ্ট হয়—জবি শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যসচেতন। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যচর্চার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক।

এসময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের আয়োজিত ‘রান উইথ শিবির’ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ দেখে আমার কাছে উৎসবমুখর পরিবেশ মনে হয়েছে। আমাদের এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য—শিক্ষার্থীরা যেন শারীরিকভাবে সুস্থ থাকে। আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে হলে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার বিকল্প নেই। বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ছাত্রশিবির এ ধরনের বড় আয়োজন করতে পারেনি। কিন্তু গত ৫ আগস্টের পরিবর্তন-পরবর্তী সময়ে জবি শিবির শিক্ষার্থীদের জন্য একের পর এক চমৎকার আয়োজন করে চলেছে। আশা করি, এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

শিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সিগবাতুল্লাহ সিগবা বলেন, এমন একটি চমৎকার আয়োজনের জন্য জবি শিবিরকে ধন্যবাদ জানাই। বর্তমানে বাংলাদেশ এক ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় দেশের তরুণরাই সবসময় এগিয়ে এসেছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, একটি ফ্যাসিবাদী শক্তি আবারও বাংলাদেশকে হুমকির মুখে ফেলতে চায়। আমরা মনে করি, তরুণ সমাজ যদি সজাগ ও ফিট থাকে, তাহলে কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ নেই। একইসঙ্গে যারা বিদেশি প্রভাব বিস্তার করতে চায়—তাদের বিরুদ্ধেও তরুণ সমাজের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি জানাচ্ছি।

জবি শাখা শিবিরের সভাপতি রিয়াজুর ইসলাম বলেন, “আজকের ‘রান উইথ জবি শিবির’ কর্মসূচির মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘চলো একসাথে হাঁটি, একসাথে দেশ গড়ি’। আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকা। আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হলে সুস্থ থাকার বিকল্প নেই। আমাদের কর্মসূচিতে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেছে এবং প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ আয়োজন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। আশা করি, জবি শিবির আগামীতেও শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কার্যকর ও চমৎকার কর্মসূচির আয়োজন করবে, ইনশাআল্লাহ। সেইসব কর্মসূচিতে সকল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের আহ্বান জানাই।

এসময় শাখা শিবিরের সাবেক সভাপতি মাকসুদুর রহমান, আসাদুল ইসলাম, শাখা সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল আলিম আরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ জাহেদ, অফিস সম্পাদক ইব্রাহিম খলিলসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

নয়াশতাব্দী/এনএ