২০২৫ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন হাঙ্গেরিয়ান লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই। তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে "তাঁর অনিবার্য ও দূরদর্শী কাজের জন্য, যা মহাপ্রলয়ঙ্করী ভয়ের মধ্যেও শিল্পের শক্তিকে আবারও দৃঢ় করে।"
লাসলো ক্রাসনাহোরকাই ১৯৫৪ সালে রোমানিয়ার সীমান্তের কাছে হাঙ্গেরির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ছোট শহর জিউলাতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রথম উপন্যাস সাতানটাঙ্গো (১৯৮৫) হাঙ্গেরির এক পরিত্যক্ত সমবায় খামারে বসবাসরত দরিদ্র মানুষের জীবনের গল্প। সমাজতন্ত্রের পতনের ঠিক আগে অনিশ্চয়তা ও নিরাশার প্রেক্ষাপটে রচিত এই উপন্যাস হাঙ্গেরির সাহিত্য জগতে আলোড়ন তোলে এবং লেখকের ব্রেকথ্রু কাজ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
পরবর্তীতে প্রকাশিত দ্য মেলানকোলি অব রেজিসট্যান্স (১৯৮৯, ইংরেজি অনুবাদ ১৯৯৮) তাঁর বিশ্বখ্যাতি আরও বাড়ায়। আমেরিকান সমালোচক সুজান সোনট্যাগ এই বই পড়ে তাঁকে সমসাময়িক সাহিত্যের “অ্যাপোক্যালিপসের মাস্টার” বলে আখ্যা দেন।
ক্রাসনাহোরকাই মধ্য ইউরোপীয় সাহিত্য ঐতিহ্যের ধারক, যেখানে ফ্রান্ৎস কাফকার মতো লেখকদের প্রভাব স্পষ্ট। তাঁর লেখায় দেখা যায় দীর্ঘ বাক্য, গভীর দার্শনিক চিন্তা এবং বাস্তবতার ভেতর লুকিয়ে থাকা অতিপ্রাকৃত ভয়ের আবহ। নোবেল কমিটি তাঁকে বর্ণনা করেছে “চিন্তাশীল, সূক্ষ্মভাবে পরিমিত স্বর গ্রহণকারী” এক লেখক হিসেবে, যিনি ধ্বংসের মাঝেও মানবিক শিল্পের আশা টিকিয়ে রাখেন।
নয়াশতাব্দী/এসআর