২২ ফাল্গুন, ১৪৩২

০৬ মার্চ, ২০২৬

বুদ্ধিজীবিদের স্বাগত কিন্তু ছদ্ম বুদ্ধিজীবিতাকে না: সঞ্জয় সমাদ্দার

রুদ্র হক, বিভাগীয় সম্পাদক, বিনোদন প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৫, ৫:৫৫ অপরাহ্ন
বুদ্ধিজীবিদের স্বাগত কিন্তু ছদ্ম বুদ্ধিজীবিতাকে না: সঞ্জয় সমাদ্দার
‘ইনসাফ’ চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে নির্দেশনারত নির্মাতা সঞ্জয় সমাদ্দার

নির্মাতা সঞ্জয় সমাদ্দারের উত্থান ছোটপর্দা হতে। বড়পর্দায় এ নির্মাতা দিন দিন নিজের শক্তিমত্তার জানান দিচ্ছেন। দেশের নির্মাতা হয়েও টলিউডের বাণিজ্যিক ঘরানার ছবি নির্মাণ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। গেল ঈদ উল আযহায় মুক্তি পেয়েছিল তার চলচ্চিত্র ‘ইনসাফ’। চলচ্চিত্রটি চলতি সপ্তাহে মুক্তি পেয়েছে ওটিটি প্লাটফর্মেও। রবিবার তার জন্মদিনে নয়া শতাব্দীর মুখোমুখি হয়েছেন এ তিনি।


শুভ জন্মদিন! মানুষ হিসেবে জন্মে আপনি কতটা সুখী?
আমি সম্ভবত বাঁচতে শিখে গেছি। তাই আমি সুখী! কারণ কোনো কিছুই স্থায়ী নয়, আমিও না, কেউই নয়!

‘ইনসাফ’ ওটিটিতে এল, কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
চরকি থেকে জানিয়েছে দারুন রেসপন্স। ওয়াচ টাইম হিউজ!

ইনসাফ টু নির্মাণের কোন পরিকল্পনা আছে কি?
ইনসাফ টু ভেবেই ইনসাফ করা হয়েছিলো। মোশাররফ ভাই’র ক্যারেক্টার ইন্ট্রো দেয়া হয়েছে। ডিটেইল গল্পটা টু তে করার ইচ্ছে আছে। 



সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন ‘মাস’ এবং ‘ক্লাস’-এর মধ্যে দুরত্ব ঘোচাতে চান বলেছেন, সেটা কিভাবে?

কঠিন কথা সহজে বলতে চাই! আঁতলামি না করেও বক্তব্য প্রধান সিনেমা করা একটা উপায় হতে পারে। বাট ‘পিওর ক্লাস’ সিনেমা বানানোর চেষ্টাও করব। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে পুরস্কার না পেলে আবার সুশীলদের মন জয় করা যায় না! বুদ্ধিজীবিদের স্বাগত জানাই কিন্তু ছদ্ম বুদ্ধিজীবিতাকে না। 

ছদ্ম বুদ্ধিজীবিতার কথা বলছেন, বিষয়টা একটু খোলাসা করে বলবেন?
আমাদের অনেকের স্বভাব কী, সহজ সাধারণ জিনিসকে আমরা ‘রিকগনাইজ’ করি না। ‘ছুটির ঘন্টা ‘র ডিরেক্টরের নামই হয়তো আমরা জানবো না, কিন্তু তথাকথিত এমন আঁতেল পরিচালকের নাম কে অনেক বেশি প্রচার করা হবে, শিল্পমানে তার সিনেমা হয়তো ‘ছুটির ঘন্টা’র কাছাকাছিও না! কিছু বিদেশি মহান ডিরেক্টর আর সিনেমার নাম মুখস্ত করে এরা নিজেকে ইন্টেলেকচুয়াল ভাবে।

এমন চর্চাও আছে- ‘এ আমাদের ঘরানার ও আমাদের ঘরানার না’, ‘আপনি সিন্ডিকেটের মধ্যে নাই’। তাই আমি বলি, মুক্ত মানুষ হতে হবে। কমার্শিয়াল সিনেমার ডিরেক্টরদের নাক সিঁটকানো হয়, কিন্তু যারা আর্ট করেন তাদের আর্টও কি ঠিকঠাক হয়? কয়েকটা মুখস্থ ছবি বা বইয়ের নাম জানলেই হল? আমি বলতে চাই, একজন সাধারণের ভেতর থেকেও যদি অসাধারণ কিছু পাই আমরা তাকেও স্বাগত জানাতে হবে। There is a fine line between knowledge and wisdom!



বাংলাদেশের নির্মাতা হয়ে কলকাতায় চলচ্চিত্র নির্মাণের আইডিয়াটা কিভাবে এসেছিল? 

এটা একটা সুযোগ হিসেবে এসেছিলো। আমি ফ্রি ল্যান্সার। যেখানে ডাকবে, কাজের সুযোগ থাকবে সেখানে করব। 


ভবিষ্যতে এ ধরণের নির্মাণে আর আগ্রহ আছে কিনা?
আবার যদি কেউ ডাকে তখন ভেবে দেখব। এখন দেশের কাজ নিয়ে ব্যস্ত। 

আমাদের নির্মাতারা ভাষার গণ্ডি পেরিয়ে কতদূর যেতে পেরেছে বলে মনে করেন?
সিনেমা নিজেই একটা ভাষা। সেই সিনেমাটিক ল্যাংগুয়েজ অ্যাচিভ করতে পারলেই অনেকটা এগিয়ে যাওয়া যায়। Art is always beyond border & language. 


দূর ভবিষ্যতের দিকে তাকালে বড়পর্দার নির্মাতা হিসেবে নিজেকে কোন জায়গায় দেখতে পান?
নিজের আগের কাজ থেকে একদম আলাদা ধরনের বানিজ্যিক সিনেমা করতে চাই। তাছাড়া একদম নিজের পছন্দের কিছু ইন্ডি ফিল্ম করতে চাই।